শনিবার । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩

ক্রিসেনথিমাম সংক্রান্ত প্রশ্ন

রুশাইদ আহমেদ

আমার একটু ইচ্ছে করে:
কেউ আমার কয়েকটা পংক্তি পড়ে দেখুক।
মনে চায়, আমার দুর্বোধ্য মেটাফোরের সামারি
লিখে দিক সন্তর্পণে কেউ।

আধুনিক বহুতল ভবনে ঘর চড়ুইয়ের একটুখানি জায়গা হোক।
বিপন্ন শিকারী ঘড়িয়াল নিজেই ঘাতকের শিকারে পরিণত হোক
এমনটা আমার কাম্য নয়।
প্রস্ফুটিত ক্রিসেনথিমাম কি আমাদের যূথবদ্ধ হাতের মতো হতে পারবে?

আমার চাওয়া, দেয়ালের ওপার থেকে
উদভ্রান্ত পঙ্গপালের ডানা ঝাপটানি
কারো কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুক।
শীত শেষের পর গাছের সবুজ শিশুরা কালচক্রের নিয়ন্ত্রক বনে যাক।

বহুদিন হলো আমি গল্প লিখি না।
বর্তমানের চেয়ে অতীত আর ভবিষ্যতের দিকেই চেয়ে থাকতে আমার ভাল্লাগে।

আমার একটু ইচ্ছে করে:
কেউ আমাকে খালি গলায় গান গেয়ে শোনাক; সুর না থাকলেও আপত্তি নেই।
মনে চায়, শারদীয় বিকেলে যমুনার চরের কাশের ঝোঁপ থেকে
আমার নাম নিয়ে নামতা পড়ুক কেউ।

নির্ঝঞ্ঝাট রাত্রির নিভৃত থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে আসুক কোনো নিশাচর।
পূর্বাহ্নের ঘাসের ওপর হিমায়িত শিশিরের গন্ধ উবে না যাক।
বেগুনি স্মৃতির চেয়ে উজ্জ্বল কোনো পান্থ কি আমার সঙ্গী হবে?

আমার একটু ইচ্ছে করে:
সন্ধ্যের হঠাৎ জ¦রের প্রকোপটা আরেকটু বাড়ুক।
মনে চায়, শান্ত হাতে দাওয়াই আর জল আমার দিকে বাড়িয়ে দিক কেউ।

ভাতঘুমের ভেতরে কারো চেহারার একটুখানি জায়গা হোক।
সময়ের অভাবে অসময়ে কেউ আমায় কিছু লিখতে ভুলে যাক এমনটা আমি চাই না।
শুধু জানতে চাই:
প্রস্ফুটিত ক্রিসেনথিমাম কি আমাদের যূথবদ্ধ হাতের মতো হতে পারবে?

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন